‘টসে জিতে ব্যাটিং নাও। যদি মনে কোনো দ্বিধা থাকে, তাহলে একটু ভাবতে পার। তারপর ব্যাটিং নাও।’
৮১ রানে ইংল্যান্ডের প্রথম ৩ উইকেট তুলে নিয়ে অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে ঠিক প্রমাণ করার দায়িত্বটা ভালোই পালন করছিলেন রোস্টন চেজ–আলজারি জোসেফরা। কিন্তু ম্যানচেস্টারের শেষ বিকেলে হোল্ডারের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিলেন ডম সিবলি ও বেন স্টোকস। আর কোনো উইকেট না হারিয়েই ইংল্যান্ড দিন শেষ করেছিল ২০৭ রানে।
জেসন হোল্ডার অবশ্য টস জিতলে ফিল্ডিং নেওয়াটাই ভালো মনে করেন আজকাল। ২০১৯ সালের শুরু থেকে সর্বশেষ যে ছয় টেস্টে টস জিতেছেন তার পাঁচটিতেই প্রথমে ফিল্ডিং নিয়েছেন হোল্ডার। এর দুটিতে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, হেরেছেও দুটিতে। এবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে হার না জিত-কে এগিয়ে যাবে কে জানে!
হোল্ডার ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক হয়েছেন ২০১৫ সালের অক্টোবরে। সেই সময় থেকে শুরু করে গত প্রায় পাঁচ বছরে ১১ বার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন হোল্ডার। এই সময়ে ক্যারিবীয়দের চেয়ে টস জিতে বেশি ফিল্ডিং নিয়েছে শুধু একটি দল—নিউজিল্যান্ড। কিউইরা ওই ১৪ ম্যাচের ১০টিতেই জিতে অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতাও প্রমাণ করেছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ? ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের আগে ১০ ম্যাচের মাত্র তিনটিতে জয় পাওয়া হোল্ডারের দল হেরেছে বাকি সাতটিতে।
এই সময়ে টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে হারার রেকর্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপরে আছে শুধু বাংলাদেশ। তিনটি টেস্টে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবারই প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে। তিন ম্যাচের দুটিই আবার ২০১৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। ওই সিরিজে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় ঘটনা ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে কিংস্টনে। এবার অধিনায়কের নাম সাকিব আল হাসান।
অন্যদিকে সাফল্যের বিচারে নিউজিল্যান্ডের ঠিক পরেই রাখতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। চার ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে তিনটিতেই যে জিতেছে প্রোটিয়ারা।
টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিং (২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে)
ম্যাচ জয় হার ড্র
নিউজিল্যান্ড ১৪ ১০ ২ ২
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১ ৩ ৭ ০
ইংল্যান্ড ৬ ২ ৩ ১
শ্রীলঙ্কা ৬ ১ ৪ ১
দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ ৩ ১ ০
অস্ট্রেলিয়া ৪ ২ ১ ১
পাকিস্তান ৪ ২ ২ ০
বাংলাদেশ ৩ ০ ৩ ০
ভারত ১ ০ ০ ১
আয়ারল্যান্ড ১ ০ ১ ০
জিম্বাবুয়ে ১ ০ ১ ০