সিলেটে এবার লোভাছড়ায় অবৈধভাবে মজুত করা এক কোটি ঘনফুট পাথর জব্দ হয়েছে। শনিবার প্রশাসনের লোকজন দিনভর অভিযান চালিয়ে পাথরগুলো জব্দ করেন। ইজারাবহির্ভূত লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে এসব পাথর উত্তোলন করে মজুত করেছিলেন প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ীরা।
লোভাছড়া অভিযানে অংশ নেওয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন এক কোটি ঘনফুট পাথর জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, জব্দ করা পাথর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিলাম ডেকে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
লোভাছড়ায় জব্দ করা এক কোটি ঘনফুট পাথরের বর্তমান বাজারদর ৫০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
লোভাছড়া পাথর কোয়ারির অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী লোভা নদীর অববাহিকা এলাকায়। ৪০২ দশমিক ৮৯ একর আয়তনের এই পাথর কোয়ারির ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৪২৬ বাংলা সনের ৩০ চৈত্র। বাংলাদেশ খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমএডি) গত ২৮ মে একটি পত্রের মাধ্যমে পাথর কোয়ারির ইজারার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। লোভাছড়া পাথর কোয়ারির ইজারাদার ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক মস্তাক আহমদ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইজারার মেয়াদ পার হওয়ার পরও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে কোয়ারি এলাকাসহ লোভা নদীর তীরে মজুত করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়ার সুযোগে পাথরগুলো পরিবহন করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর শনিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযানে নামেন। এ সময় লোভাছড়ায় অবৈধভাবে মজুত করা এক কোটি ঘনফুট পাথর জব্দ হয়।
এর আগে ১৪ জুলাই সুরমা নদীর তীরে অবৈধভাবে মজুত করা পাথর জব্দ করা হয়। প্রকাশ্যে নিলাম ডাকের মাধ্যমে সেই পাথর ৯৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওই অভিযানে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা মূল্যের ২৩টি অবৈধ পাথর ভাঙার কল (স্টোন ক্র্যাশার মিল) ধ্বংস করা হয়েছিল। একইভাবে ৯ জুলাই কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদের তীরে অবৈধভাবে মজুত করা ৯ লাখ টাকার পাথর জব্দ করে বিক্রি করা হয়।
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বারিউল করিম খান প্রথম আলোকে বলেন, লোভাছড়া পাথর কোয়ারির ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পাথর উত্তোলন ও বিক্রির চেষ্টা চলছিল। উপজেলা প্রশাসনও দফায় দফায় অভিযান চালায়। ৪ ও ১২ জুলাই দুই দফা অভিযান চলে। সর্বশেষ শনিবারের অভিযানে লোভাছড়া কোয়ারি থেকে নদীতীরের কানাইঘাট সেতু এলাকা পর্যন্ত সব পাথর জব্দ করা হয়েছে।