“আমি আবার ফিরছি”, সোশ্যালে হিয়া এটুকু জানাতেই নেটপাড়া সরগরম। স্টার জলসার ফেসবুক পেজের মন্তব্যগুলো দেখলে আক্কেল গুড়ুম হবে আপনারও!
মন্তব্য ১. ‘ঝিনুকের সঙ্গে যদি বিয়ে হয়ে যায় তা হলে আর দেখেই কী করব! আমরা তো উজান হিয়ার জার্নি দেখতে চেয়েছি, কোনও ঝিনুকের নয়’।

কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ‘ছি! আজ অনামিকাকে শিখণ্ডী বানাচ্ছেন? কেন, আমরা অনামিকার কথা মানি, তাকে ভালবাসি বলে। সে বানাচ্ছেন বানান, কোনও অসুবিধা নেই। তবে মহাভারত আমাদের জানা আছে। ভুলে যাবেন না, আমরা কিন্তু কেউ ভীষ্ম নই। যে ভীষ্ম প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন বলে অর্জুনের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল তাঁকে হত্যা করা। সুতরাং আমাদেরকে এই ধরনের শিখণ্ডী খাড়া করে ওই ‘এখানে আকাশ নীল’ দেখাতে পারবেন না। আমরা তখনই দেখব, যদি দেখি উজান-ঝিনুকের বিয়ে হচ্ছে না এবং উজান হিয়ার সব সত্যি জেনে ফিরে গেছে হিয়ার কাছে। তখনই আমরা দেখব, নচেৎ নয়।’
#বয়কট_এখানে_আকাশ_নীল
#বয়কট_স্টার_জলসা
#বয়কট_সুরিন্দর_ফিল্মস_টিভি
আনলক পর্যায় থেকে ‘এখানে আকাশ নীল’ ধারাবাহিক নিয়ে এত তপ্ত বাক্য বিনিময় সোশ্যালে কেন হচ্ছে? একদম টাটকা খবর, একদিকে বিয়ের পথে উজান-ঝিনুক। অন্যদিকে ফিরছে হিয়া।
হিয়ার ফেরায় তো খুশি হওয়ার কথা দর্শকদের। হিয়া ওরফে অনামিকা যখন চলে গিয়েছিলেন, তখন সবাই তাঁকেই ফিরে পেতে চেয়েছিলেন। তাহলে এখন এমন মন্তব্য কেন?
রি-অ্যাকশনগুলো একটু খেয়াল করলেই বোঝা যাবে, উজান-হিয়ার মাঝে ঝিনুককে একদম মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ফলে, সব রাগ জড়ো হয়েছে সোশ্যালের পাতায়। সবার স্পষ্ট বক্তব্য, উজান-হিয়ার প্রেম, বিয়ে দেখতে চান তাঁরা। ঝিনুকের উপস্থিতি তাঁরা সহ্য করতে পারছেন না।
দর্শকদের ভেতর এই টানাপড়েন, পুরো বিষয়টি কি উপভোগ করছেন হিয়া ওরফে অনামিকা চক্রবর্তী? উত্তর এল, ‘‘এত ভালবাসা পাব দর্শকদের, এত জনপ্রিয় হব অভিনয়ের শুরুতে বুঝতেই পারিনি। প্রথম বুঝতে পারি লকডাউন পিরিয়ডে। আনলক পর্যায়ে শুটের কথা ঘোষণা হতেই ঠিক এ ভাবে আমার ফ্যানপেজ ভেসে গিয়েছিল দর্শকদের শুভকামনায়। সবাই হা-পিত্যেশ করছিলেন, অপেক্ষায় ছিলেন ধারাবাহিক দেখার জন্য।’’
কিন্তু গোড়াতেই গলদ, নানা সমস্যায় হিয়া-ই নেই উজান স্যরের জীবনে! সমস্যা কনটেনমেন্ট জোন না অন্য কিছু? ‘‘পুরোটাই করোনাঘটিত। দিন দুই শুটিংয়ের পর আচমকাই আমাদের বাড়ি এবং আশপাশের কিছু অঞ্চল কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করায় নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। তখনও দর্শকেরা মারাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। সমস্যা কমতেই আমি আবার পর্দায়।’’
এদিকে হিয়ার অনুপস্থিতিতে উজান স্যরের জীবনে ঝিনুক। হিয়া এবার কী করবে? আবারও অনামিকার স্বীকারোক্তি, “চিত্রনাট্য যা বলবে। অভিনেতাদের হাতে কিছুই নেই। পরিচালক যে ভাবে পর্ব পরিচালনা করবেন বা নির্দেশ দেবেন গল্প সেদিকেই এগোবে।”

সমস্ত ঘটনা বা কাণ্ডের জন্য ইতিমধ্যেই দর্শক ১০০ শতাংশ দায়ী করেছে মেগার পরিচালক সীমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ফোনে এই তথ্য জানাতেই হাঁপাতে হাঁপাতে উত্তর এল, ‘‘কী করে বোঝাই, আমার হাতে কিচ্ছু নেই? পুরোটাই হচ্ছে চিত্রনাট্যের জোরে। দিনের শেষে পরের দিনের চিত্রনাট্য পাই। সেই অনুযায়ী পরের দিনের কাজ করি। অথচ সবাই আমায় দায়ী করছে। ভাবছে, আমি বোধহয় নাটের গুরু। কিন্তু তেমনটা যে নই সেটা, বোঝানোর দায়িত্ব কিন্তু মিডিয়ার।’’
ধারাবাহিক, আপনাকে নিয়ে এত হইচই। উপভোগ করছেন? “অস্বস্তি হচ্ছে”– চটজলদি জবাব পরিচালকের। তার পরেই অকপট, “মেগায় কাজ করতে করতে অনেক রকমের সমস্যা হয়। যেমন, অনামিকার হয়েছিল। কিছু সময় তখন ও ছিল না। সমস্যা মিটতেই আবার ফিরে এসেছে। এ সব কাজের অঙ্গ।”
নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও কি উজানের সঙ্গে হিয়ার বিয়ে হবে? জবাব দিতে গিয়ে হেসে ফেললেন সীমন্ত, চিত্রনাট্যে যা লেখা থাকবে সেটাই হবে।
যার বিয়ে সেই ‘উজান’ ওরফে শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী অবস্থা? পাড়াপড়শি থুড়ি দর্শকের তো প্রায় ঘুম ওড়ার জোগাড়! ফোনে উত্তর দিতে গিয়েও ডাক্তারবাবু যথারীতি শান্ত, ধীর, স্থির। জানিয়েছেন, চিত্রনাট্য যা বলবে উজান সেটাই মেনে নিতে বাধ্য। তবে পরিস্থিতির জন্য কিছু বদল আনতে হয়েছিল পর্বে। সব সমস্যা মিটে গেছে। ফলে, সবটাই মনে হয় আগের মতোই চলবে।
তার মানে উজানও হিয়াকেই চায়? ঝিনুক সাময়িক দুর্বলতা? ফোনে পুরোপুরি সারেন্ডার, ”গল্প অনুযায়ী উজান শুরু থেকে শুধুই হিয়াকে চেয়েছে। ফলে, সেই চাওয়া তো থাকবেই…..!”
এটুকু বলেই ধারাবাহিকের মতোই নিজের কাজে আকণ্ঠ ডুব দিলেন শন। কিন্তু তাঁর কণ্ঠস্বর বলেছে, ইতিবাচক কিছুই ঘটবে সম্ভবত। সুতরাং, ঝিনুকের জন্য দুর্বলতা তৈরি হলেও হিয়াকে ভোলা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে হিয়ার ফিরে আসা দর্শকদের মনের জোর কিন্তু বাড়িয়ে দিয়েছে। সবার একান্ত চাওয়ায় ফিরেছে হিয়া, এমন ধারণা জনতার। ফলে, এবার সবার নতুন চাওয়া, মিলন হোক উজান-হিয়ার। এই চাওয়া আট থেকে আশির।