ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৩ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল কোম্পানির সব ধরনের ইন্টারনেটের দাম কমছে ১০ শতাংশ। রমজানে মাধ্যমিক স্কুল খোলা থাকবে ১৫ দিন, প্রাথমিক স্কুল ১০ দিন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং এলাকা দিয়ে আজ অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মিয়ানমারের সেনা সাদ সাহেব রুজু করার পর দেওবন্দের মাসআলা খতম হয়ে গেছে : মাওলানা আরশাদ মাদানী চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনের বয়ান পুলিশ সদস্যসহ বিশ্ব ইজতেমায় ৭ জনের মৃত্যু বর্তমান সরকারের সঙ্গে সব দেশ কাজ করতে চায়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়পুরহাটে স্কুলছাত্র হত্যায় ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড

রমজানের আমলগুলো কতদিন করবেন মুমিন?

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০
  • ৮৪৯ পঠিত

বিদায় নিয়েছে রহমতের মাস রমজান। তাহলে রমজানের আমলগুলো কতদিন আদায় করবে মুমিন? এ সম্পর্কে কুরআনের কোনো দিক নির্দেশনাই বা কী? আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে আমলি জীবন-যাপনের কথা তুলে ধরে বলেন-
‘মৃত্যু আসা পর্যন্ত তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত করতে থাক।’ (সুরা হিজর : আয়াত ৯৯)

তাই কোনো মুমিন ব্যক্তিই যেন রমজানের প্রচণ্ড পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে সিয়াম-সাধনার পর আবার যেন পূর্বের ন্যায় অন্যায় কাজে লিপ্ত না হই। কেননা আল্লাহ তাআলা রমজানের বিধান পালনে কুরআনে মানুষকে ঈমানদার বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর তাঁকে ভয় করার গুণ অর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন-
‘হে ঈমাদারগণ! তোমাদের ওপর (রমজানের) রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের উপরফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া (আল্লাহকে ভয় করার গুণ) অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

রমজানের আমলভরা দিনগুলো বিদায় নেয়ার পর মুমিনের আমল তো এক দিনের জন্যও শেষ হওয়ার কথা নয়। যিনি রমজান মাসের মালিক, তিনি তো রমজান পরবর্তী বাকি মাসগুলোর ও মালিক। আল্লাহ তাআলা-
‘আসমান জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে মাসগুলোর সংখ্যা হল বার। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস।’ (সূরা আত ত্বাওবাহ : আয়াত ৩৬)

সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য হল, তাঁরা রমজান মাসে যে সব নেক আমলের অভ্যাস গঠন করেছে; সেই সব নেক কাজগুলো বন্ধ না করে নিয়মিত তা চালু রাখা। আল্লাহ বলেন-
‘মৃত্যু আসা পর্যন্ত তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত করতে থাক।’ (সুরা হিজর : আয়াত ৯৯)

কুরআনের উল্লেখিত আয়াতগুলোর আলোকে বুঝা যায় যে, রমজান চলে গেলেই আমল বন্ধ হবে না বরং তার আমরণ চালিয়ে যেতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা এমনই। এ আয়াতের আলোকে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উপদেশগুলো মেনে চলা জরুরি। হাদিসে এসেছে-
– ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে ঐ আমল, যা নিয়মিত করে যাওয়া হয়; যদিও বা তার পরিমাণ কম হয়।’
– ‘তোমার ঈমানকে খাঁটি কর; অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।
সুতরাং নেক কাজ সামান্য সময়ের জন্য বন্ধ না করে নিয়মিতভাবে করা।

ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে সবরের মাস, সংযমের মাস, ত্যাগের মাস রমজান। এই সবর, সংযম, ত্যাগই হচ্ছে মুমিনের সম্বল। বলাই বাহুল্য, এ মাসে মুসলমান অনেক প্রচেষ্টা ও শ্রম দিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করেছে, তেমনি পরের মাসগুলোতেও যেন সেই প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম অব্যাহত থাকে। বান্দার আমল-আখলাক এমন হওয়া উচিত যে, সে যেন পবিত্র রমজান মাসই অতিবাহিত করছে।

Tag :
জনপ্রিয়

৩ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

রমজানের আমলগুলো কতদিন করবেন মুমিন?

প্রকাশিত : ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০

বিদায় নিয়েছে রহমতের মাস রমজান। তাহলে রমজানের আমলগুলো কতদিন আদায় করবে মুমিন? এ সম্পর্কে কুরআনের কোনো দিক নির্দেশনাই বা কী? আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে আমলি জীবন-যাপনের কথা তুলে ধরে বলেন-
‘মৃত্যু আসা পর্যন্ত তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত করতে থাক।’ (সুরা হিজর : আয়াত ৯৯)

তাই কোনো মুমিন ব্যক্তিই যেন রমজানের প্রচণ্ড পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে সিয়াম-সাধনার পর আবার যেন পূর্বের ন্যায় অন্যায় কাজে লিপ্ত না হই। কেননা আল্লাহ তাআলা রমজানের বিধান পালনে কুরআনে মানুষকে ঈমানদার বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর তাঁকে ভয় করার গুণ অর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন-
‘হে ঈমাদারগণ! তোমাদের ওপর (রমজানের) রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের উপরফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া (আল্লাহকে ভয় করার গুণ) অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

রমজানের আমলভরা দিনগুলো বিদায় নেয়ার পর মুমিনের আমল তো এক দিনের জন্যও শেষ হওয়ার কথা নয়। যিনি রমজান মাসের মালিক, তিনি তো রমজান পরবর্তী বাকি মাসগুলোর ও মালিক। আল্লাহ তাআলা-
‘আসমান জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে মাসগুলোর সংখ্যা হল বার। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস।’ (সূরা আত ত্বাওবাহ : আয়াত ৩৬)

সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য হল, তাঁরা রমজান মাসে যে সব নেক আমলের অভ্যাস গঠন করেছে; সেই সব নেক কাজগুলো বন্ধ না করে নিয়মিত তা চালু রাখা। আল্লাহ বলেন-
‘মৃত্যু আসা পর্যন্ত তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত করতে থাক।’ (সুরা হিজর : আয়াত ৯৯)

কুরআনের উল্লেখিত আয়াতগুলোর আলোকে বুঝা যায় যে, রমজান চলে গেলেই আমল বন্ধ হবে না বরং তার আমরণ চালিয়ে যেতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা এমনই। এ আয়াতের আলোকে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উপদেশগুলো মেনে চলা জরুরি। হাদিসে এসেছে-
– ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে ঐ আমল, যা নিয়মিত করে যাওয়া হয়; যদিও বা তার পরিমাণ কম হয়।’
– ‘তোমার ঈমানকে খাঁটি কর; অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।
সুতরাং নেক কাজ সামান্য সময়ের জন্য বন্ধ না করে নিয়মিতভাবে করা।

ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে সবরের মাস, সংযমের মাস, ত্যাগের মাস রমজান। এই সবর, সংযম, ত্যাগই হচ্ছে মুমিনের সম্বল। বলাই বাহুল্য, এ মাসে মুসলমান অনেক প্রচেষ্টা ও শ্রম দিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করেছে, তেমনি পরের মাসগুলোতেও যেন সেই প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম অব্যাহত থাকে। বান্দার আমল-আখলাক এমন হওয়া উচিত যে, সে যেন পবিত্র রমজান মাসই অতিবাহিত করছে।