কলকাতায় যখন প্রতিদিন নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, দেশের তিন শহর দিল্লি, মুম্বই ও আমদাবাদে সংক্রমণ কমছে। এমনই দাবি করলেন দিল্লির এমস-এর ডিরেক্টর তথা করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন কোভিড-১৯’ এর নেতৄত্বস্থানীয় সদস্য রণদীপ গুলেরিয়া। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দেশের এই তিন মেগাসিটি এবং দক্ষিণের কয়েকটি শহরে করোনার গ্রাফ নিম্নমুখী। এর পাশাপাশি টিকা কবে আসবে, করোনা রুখতে লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা, ভারতে কবে সংক্রমণ শিখরে পৌঁছবে সেই সব বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন চিকিৎসক গুলেরিয়া।
ভারতে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, মুম্বই শহর ও শহরতলিতে। দেশে সংক্রমণ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে উঠে যায় মুম্বই। তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ আক্রান্ত এই রাজ্যেই। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী মহারাষ্ট্রে মোট আক্রান্ত ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫০২ জন। মহারাষ্ট্রের পরেই বৄদ্ধির হার সর্বোচ্চ ছিল দিল্লিতে। রাজধানীতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৬৪। এখন যদিও আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ু। উদ্বেগ ছিল গুজরাতের আমদাবাদ সংক্রমণ নিয়েও।
করোনা সংক্রমণের পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে মুম্বই, দিল্লি, আমদাবাদে সংক্রমণ পড়তির দিকে। বাণিজ্য নগরীতে জুন মাসের শেষের দিকেও যেখানে প্রতিদিন ২০০০ করে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছিলেন, এখন সেখানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে হাজারের আশেপাশে। ২০ জুলাই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০৩৫, ২১ জুলাই ছিল ৯৪৫, ২২ জুলাই ১৩১০ এবং ২৩ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা ১২৪৫। পরিসংখ্যানের হিসেবে মুম্বইয়ের চেয়েও ভাল অবস্থায় দিল্লি। জুন মাসের শেষের দিকে রাজধানীতে প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল প্রায় ৪ হাজার করে। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১০০০-এর আশেপাশে। ২০ জুলাই এই সংখ্যা ছিল ৯৫৪, ২১ জুলাই ১৩৪৯, ২২ জুলাই ১২২৭ এবং ২৩ জুলাই ১০৪১। আমদাবাদের পরিসংখ্যানও ইতিবাচক। গুজরাতের এই শহরে এখন প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দু’শোর কম-বেশি। ২০ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ১৯৩, ১৯৯, ১৯৬ এবং ২১০। জুনের শেষের দিকে সেখানে প্রতিদিন বৄদ্ধির সংখ্যা ঘোরাফেরা করছিল ৪০০-র আশেপাশে।
কিন্তু দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিটা কেমন? কবেই বা সংক্রমণ শিখরে পৌঁছবে। সাক্ষাৎকারে রণদীপ গুলেরিয়া অবশ্য এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাননি। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কড়া ভাবে লকডাউন এবং কন্টেনমেন্ট জোনে কঠোর নজরদারি ছাড়া যে সম্ভব নয়, তা ফের এ দিন স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক গুলেরিয়া। তিনি বলেন, ‘‘কোনও এলাকায় ব্যাপক হারে সংক্রমণ হলে কঠোর ভাবে কন্টেনমেন্ট কৌশল নিতে হবে। শুধু লকডাউন নয়, বাড়ি বাড়ি সার্ভে করে এবং সেই মতো ব্যবস্থা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আক্রান্তদের নির্ধারণ করা, আইসোলেশন এবং লকডাউন ভীষণ ভাবে জরুরি।’’