ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৩ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল কোম্পানির সব ধরনের ইন্টারনেটের দাম কমছে ১০ শতাংশ। রমজানে মাধ্যমিক স্কুল খোলা থাকবে ১৫ দিন, প্রাথমিক স্কুল ১০ দিন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং এলাকা দিয়ে আজ অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মিয়ানমারের সেনা সাদ সাহেব রুজু করার পর দেওবন্দের মাসআলা খতম হয়ে গেছে : মাওলানা আরশাদ মাদানী চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনের বয়ান পুলিশ সদস্যসহ বিশ্ব ইজতেমায় ৭ জনের মৃত্যু বর্তমান সরকারের সঙ্গে সব দেশ কাজ করতে চায়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়পুরহাটে স্কুলছাত্র হত্যায় ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড

১০১ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০
  • ১১৩২ পঠিত

‘আত্মনির্ভরতা’র পথে আরও এক ধাপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্লোগানকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে এ বার কোপ পড়ল প্রতিরক্ষা আমদানিতে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ রবিবার জানিয়েছেন, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রগুলিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে ১০১ রকমের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কামান থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, হাল্কা যুদ্ধবিমান থেকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, অনেক কিছুই রয়েছে এই তালিকায়!

রাজনাথ আজ টুইট করেন, ‘‘২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।’’ তিনি জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে যে সমর সরঞ্জামগুলি আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে তার মধ্যে স্থলসেনা ও বায়ুসেনার জন্য প্রস্তাবিত ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার উপকরণ রয়েছে। নৌসেনার উপকরণের আনুমানিক পরিমাণ ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার। এ বার দেশীয় সংস্থাগুলি তা উৎপাদন করবে। চলতি বছরই ঘরোয়া প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ব্যয় করা হবে ৫২ হাজার কোটি টাকা।

আগামী ৬-৭ বছর ধরে দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্যে চার লক্ষ কোটি টাকা লগ্নি করা হবে বলে রাজনাথের দাবি। তিনি জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার জন্য ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ মধ্যে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের প্রায় ২৬০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার মোট অঙ্ক প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে আরও কিছু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বন্ধ করা হতে পারে বলেও তাঁর ইঙ্গিত। সামরিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা বজায় রাখার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি।

স্থলসেনার জন্য পুরনো সোভিয়েত জমানার বিএমপি-২-এর বদলে ২০০টি আধুনিক আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল আনার লক্ষ্যে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কিন্তু রাজনাথ জানিয়েছেন, ২০২১-এর ডিসেম্বরের পর থেকে আর আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল আমদানি করা হবে না। পরিবর্তে দেশেই উৎপাদন করা হবে। নৌসেনার জন্য ৪২ হাজার কোটি টাকায় ছ’টি সাবমেরিন আমদানির উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হবে ওই সময়সীমা থেকেই।

নৌবাহিনীর রাডার, সোনার (সাবমেরিন সন্ধানী যন্ত্র) ও ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমানবাহিনীর হাল্কা পরিবহণ বিমান ও হাল্কা হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষণবিমান ও চালকহীন বিমান রয়েছে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়। রয়েছে, স্থলসেনার মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, স্নাইপার রাইফেল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও।

রাজনাথ সিংহ আজ টুইটারে লিখেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাঁচটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন— অর্থনীতি, পরিকাঠামো, ব্যবস্থাপনা, জনতত্ত্ব এবং চাহিদা। বিশেষ আর্থিক প্যাকেজেরও ঘোষণা করেছেন।’’ তাঁর দাবি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে দেশে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জোয়ার আসবে। ডিআরডিও’র মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উৎপাদন সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম পর্যায়েই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান দিয়েছিলেন মোদী। প্রতিরক্ষা উৎপদান ক্ষেত্রে এ বার তার বাস্তবায়ন শুরু হল বলে দাবি শাসক শিবিরের।

Tag :
জনপ্রিয়

৩ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

১০১ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত : ০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০

‘আত্মনির্ভরতা’র পথে আরও এক ধাপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্লোগানকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে এ বার কোপ পড়ল প্রতিরক্ষা আমদানিতে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ রবিবার জানিয়েছেন, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রগুলিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে ১০১ রকমের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কামান থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, হাল্কা যুদ্ধবিমান থেকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, অনেক কিছুই রয়েছে এই তালিকায়!

রাজনাথ আজ টুইট করেন, ‘‘২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।’’ তিনি জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে যে সমর সরঞ্জামগুলি আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে তার মধ্যে স্থলসেনা ও বায়ুসেনার জন্য প্রস্তাবিত ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার উপকরণ রয়েছে। নৌসেনার উপকরণের আনুমানিক পরিমাণ ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার। এ বার দেশীয় সংস্থাগুলি তা উৎপাদন করবে। চলতি বছরই ঘরোয়া প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ব্যয় করা হবে ৫২ হাজার কোটি টাকা।

আগামী ৬-৭ বছর ধরে দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্যে চার লক্ষ কোটি টাকা লগ্নি করা হবে বলে রাজনাথের দাবি। তিনি জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার জন্য ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ মধ্যে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের প্রায় ২৬০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার মোট অঙ্ক প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে আরও কিছু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বন্ধ করা হতে পারে বলেও তাঁর ইঙ্গিত। সামরিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা বজায় রাখার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি।

স্থলসেনার জন্য পুরনো সোভিয়েত জমানার বিএমপি-২-এর বদলে ২০০টি আধুনিক আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল আনার লক্ষ্যে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কিন্তু রাজনাথ জানিয়েছেন, ২০২১-এর ডিসেম্বরের পর থেকে আর আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল আমদানি করা হবে না। পরিবর্তে দেশেই উৎপাদন করা হবে। নৌসেনার জন্য ৪২ হাজার কোটি টাকায় ছ’টি সাবমেরিন আমদানির উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হবে ওই সময়সীমা থেকেই।

নৌবাহিনীর রাডার, সোনার (সাবমেরিন সন্ধানী যন্ত্র) ও ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমানবাহিনীর হাল্কা পরিবহণ বিমান ও হাল্কা হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষণবিমান ও চালকহীন বিমান রয়েছে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়। রয়েছে, স্থলসেনার মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, স্নাইপার রাইফেল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও।

রাজনাথ সিংহ আজ টুইটারে লিখেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাঁচটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন— অর্থনীতি, পরিকাঠামো, ব্যবস্থাপনা, জনতত্ত্ব এবং চাহিদা। বিশেষ আর্থিক প্যাকেজেরও ঘোষণা করেছেন।’’ তাঁর দাবি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে দেশে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জোয়ার আসবে। ডিআরডিও’র মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উৎপাদন সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম পর্যায়েই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান দিয়েছিলেন মোদী। প্রতিরক্ষা উৎপদান ক্ষেত্রে এ বার তার বাস্তবায়ন শুরু হল বলে দাবি শাসক শিবিরের।