পাকিস্তান জেনারেলদের নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছে। অনানুষ্ঠিকভাবে এটাই চরম সত্য। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে এক ডজনের বেশি সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। সরকারি বিমান সংস্থা, জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন, জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন তাঁরা। গত দুই মাসে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পরিচালনার জন্য তিনজন সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতির তদন্তে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের যুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। সেই সুযোগে সরকারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিক্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ গবেষক উজাইর ইউনুস বলেন, প্রধান প্রধান পদে সেনাবাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের নিয়োগের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার ক্ষমতা হারাচ্ছে। যার ফলে বেসামরিক কর্মকর্তাদের দেশের নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের সুযোগ কমে গেছে। সরকারে গোপনে ও সরাসরি ভূমিকা পালনও সেনাবাহিনীর বেড়েছে।
সেনাবাহিনীর অনুগত অন্তত ১২ জন বর্তমানে ইমরান খানের মন্ত্রিসভায় আছেন। এসব মন্ত্রী সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সরকারেও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইজাজ শাহ এবং ইমরানের অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা আবদুল হাফিজ শেখ অন্যতম।
ইমরান খানের প্রধান অর্থনৈতিক প্রকল্পের একটি নয়া পাকিস্তান হাউজিং প্রকল্প। বেসামরিক সরকারের নেওয়া এই প্রকল্পেও সেনাবাহিনীর প্রভাব বাড়ছে। গত দুই মাসে দুজন সেনা কর্মকর্তাকে এই প্রকল্পে নিয়োগ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক। অর্থনৈতিক উন্নতির কথা বলে ক্ষমতায় এলেও ইমরান খানের সরকার তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে দেশটির অর্থনীতির মরণদশা। গত মার্চে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারে সেনাবাহিনীর প্রভাব আরও জোরালোভাবে প্রতীয়মান হয়। ওই সময় ইমরান খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পরের দিনই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লকডাউনের ঘোষণা দেন। নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভিজিয়ার কনসালটিংয়ের প্রেসিডেন্ট আরিফ রফিক বলেন, একের পর এক সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় ইমরান খানের ক্ষমতা অব্যাহতভাবে কমতে পারে। খারাপ অর্থনীতির কারণে ইমরান খানের ওপর চাপ রয়েছে। চাপ সামনে আরও বাড়বে।